অপ্রেমপত্র (দ্বিতীয় অংশ)

জীবনের মরুভূমিতে অনেকটা পথ দিকভ্রান্ত তৃষ্ণার্ত পথিকের মত ঘুরে হঠাৎ জলের সন্ধান পেয়েছিলাম যেদিন সেদিন ঠিক ভুল বিচার না করেই আঁজলা ভরে আকণ্ঠ জল পান করেছিলাম পিপাসা মেটাতে ।আজ ভেবে পাই না,মৃত্যুমুখী তৃষ্ণা নিবারক সেই জলেই বিষ ছিল,নাকি সেই অমৃত ধারা আমার বিষাক্ত সংস্পর্শে এসে তীব্র বিষে পরিণত হয়েছে ।একবার ভালোবাসার সাথে দিন যাপনের অভ্যাস হয়ে গেলে সেই ভালোবাসাকে ভুলে থাকা বোধহয় অসম্ভব ।তাই বারবার, বরাবর আগলে রাখতেই চেয়েছি ।চাওয়া পাওয়া, অভিমান, অভিযোগ, দাবি, খারাপ লাগা – সমস্ত বোধকে মহীরুহ অস্তিত্ব থেকে ছাঁটাই করে বনসাই – এর আকার দিয়েছি—-শুধু সম্পর্কটা বাঁচিয়ে রাখার জন্য ।কিন্তু আর কত…………

আজ ৩০শে অক্টোবর ।আজ অবধি কোনো কনফার্মেশন যখন পাই নি, তখন কাল যে দেখা হচ্ছে না সেটা কনফার্ম।আমি যদিও অবাক হয় নি, কারণ এটাই এক্সপেক্টেড ছিল তোমার থেকে ।অ্যাজ ইউজুয়াল……. জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর….. হা হা হা…!!!

ভুল যা কিছু তা আমারই।বহমানতার উল্টো স্রোতে মাথা তুলে এক মুঠো জ্যোৎস্না ধরার জন্য সাধের জীবনটাকেই দাও লাগিয়ে দিয়েছিলাম ।দশ মাস সযতনে সেই জ্যোৎস্নাকে মুঠো করে গর্ভধারণ করেছি, বহমানতার বিপরীতে নিজস্ব এক স্রোতের জন্ম দেব আশায় ।আজ বেশ ক’দিনের দীর্ঘ প্রসব বেদনা সহ্য করে আমি জন্ম দিয়েছি মৃত প্রেম, যা বহমান ধারা আমার বুকের থেকে কেড়ে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে ।অমাবস্যার জ্যোৎস্না বিহীন অন্ধকার রাতে আজ আমি সম্পূর্ণ একা।

আমি জানি, আমি আজও তোমার দরজায় গিয়ে দাঁড়ালে এই নিঃস্ব অসহায় মেয়েটাকে তুমি ফেলে দেবে না ।চারিদিক দেখে নিয়ে সন্তর্পণে মনের খিড়কি দরজা খুলে দেবে যাতে যাতে চুপি চুপি সবার অজ্ঞাতসারে আমার অনুপ্রবেশ সম্ভব হয়।তাই আমিই ফিরতে পারছি না ।যেখানে সদর দরজা খুলে কেউ আমাকে স্বাগত জানাই না, যে আশ্রয় পেতে মাথা উঁচু করে নিজের দাবিতে ঢোকার বদলে চোরের মত খিড়কি দরজা দিয়ে পা টিপে টিপে ভয়ে ভয়ে যেতে হয় সে আশ্রয় আমার চাই না ।তার চেয়ে নিরাপত্তাবিহীন আগল ছাড়া আমার একলা বসত ঢের ভালো ।

কী হবে, খুব বেশি চুরি যাবে, কিছু ধূসর রঙের স্মৃতি, কিছু রক্তাক্ত শুচিতা, কিছু ভাঙা ভাঙা স্বপ্ন ।

আবারও বলবে, আমি তোমায় ভুল বুঝলাম ।

কিন্তু এটা তোমার মস্ত ভুল ।অতীতের বোঝা যেমন বর্তমানে মূল্যহীন, তেমনই ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চিত ভালোবাসায় বর্তমানের শীতলতা ঘোচে না ।বর্তমানকে গলা টিপে হত্যা করে ভবিষ্যতের জন্য বাঁচা যায় না ।

তোমার ভালো হোক ।তোমার স্ত্রী, আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব, পরিচিত, গুণমুগ্ধ মানুষদের সান্নিধ্যে কর্তব্য পালনকেই উচিত বলে জেনেছো, তার মধ্যেই থাকো নিশ্চিন্তে, প্রশ্বাস নাও এবং নিঃশ্বাস ফেলো ।দৃশ্যমান পার্থিব মুহূর্ত বন্দী করাতেই আনন্দ খুঁজে পেয়েছো, তাকেই শিল্প বলে জেনেছো – তাই করো ।যা অপার্থিব, যাকে বন্দী করা সম্ভব নয়, সেই এত দামী, এত চোখের জলের, এত বদনামের, এত গভীর যন্ত্রণার প্রেমের প্রাপ্তির মূল্য দিয়েছো চূড়ান্ত অবহেলায় ।

আমি জানি, আমি তোমাকে ছাড়া ভালো থাকবো না ।কিন্তু চালাকির পরকীয়া আমার জন্য নয় ।তার চেয়ে না হয় জানবো বেলাশেষের অন্ধকারে প্রেমের ঘর গড়েছিলাম, তাই সূর্যোদয়ের আগেই আমার সে সাধের ঘর চোরাবালি গ্রাস করছে….. …………….. শ্রী(সোনাই)

Sankhasathi Pal

Sankhasathi Pal

মফস্বল শহরের মেয়ে।পড়াশোনা ইংরাজী সাহিত্য নিয়ে ।বর্তমানে মানসিক ভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের শিক্ষাদান জন্য প্রশিক্ষণরত।ভালো লাগে গান, সাহিত্য চর্চা এবং ফটোগ্রাফি ।

More Posts

Related posts

Leave a Comment