আমার ছবি একটা মানুষের জীবন বাঁচাল – সৃজিত মুখার্জী

A chat session with Srijit Mukherjee

A chat session with Srijit Mukherjee

…… (অন্তিম ভাগ)

WishScript –  আপনার তৈরি কোন ছবি আপনার কাছে সবথেকে significant?

সৃজিত – Hemlock আমার মনে হয়, আমার সবচেয়ে significant  ছবি। Hemlock –এর পর আমি অনেক চিঠি পেয়েছিলাম, প্রতিটা সিনেমার জন্যই অনেক চিঠি পাই। একটা চিঠি আর একটা  phone call এর কথা আমি বলব।

একটা চিঠি আমি পেয়েছিলাম, ১৯ বছরের একটি মেয়ের কাছ থেকে – সেই মেয়েটির boyfriend  তাকে cheat করেছিল, মেয়েটি ঠিক করেছিল যে সে suicide করবে। বদ্ধপরিকর ছিল সে আত্মহত্যা করবে বলে। ফাঁকতালে বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে সে Hemlock দেখে, বা তাকে Hemlock দেখান হয়।মনে হয়, Hemlock এর Trailer দেখে সে জেনেছিল যে এটা একটা Suicidal Training School এর গল্প, যেখানে কি ভাবে suicide করতে হয়, সেটা শেখানো হয়…… এই সব দেখে-টেকে সে accidentally Hemlock
Hemlock Societyদেখে ফেলে, অজ্ঞাতসারে actually  সে মেঘনা হয়ে ওঠে। সিনেমা দেখে, সিনেমা তাকে সেই একই  process এর মধ্যে দিয়ে নিয়ে যায় যেমন মেঘনা গেছে – তার therapy টা হয়, এবং সে actually decide করে যে সে আর suicide  করবে  না। সেটা যখন সে আমায় জানায়, আমি সত্যি কেঁদে ফেলি। কারন, আমি প্রথমবার দেখি আমার ছবি একটা মানুষের জীবন বাঁচাল- সেটা যে কত বড় একটা পাওয়া, কোন National Award বা কোন Oscar, কোন critic বা কোন Box Office সাফল্য সেটার ধারেকাছেও আসতে পারবে না। সেই satisfaction টা, knowing তোমার লেখা একটা চিত্রনাট্য, তোমার বানানো একটা সিনেমা, একটা জলজ্যান্ত মানুষের জীবনকে বাঁচিয়েছে – এই চিন্তা টা নিয়েই আমি একদিন মারা যাব, আমার কাছে এটা একটা পাথেয় হয়ে থাকবে।সেটা একটা ঘটনা।So, সেই নিরিখে যতই বাইশে শ্রাবণ, যতই  চতুষ্কোণ, যতই রাজকাহিনী – হয়ত কিছু মানুষ কে সেই জায়গায় গিয়ে hit করেছে, অনেকের কাছে partition এর স্মৃতিকে আবার তরতাজা করে তুলেছে, effect করেছে …… কিন্তু সিনেমার জায়গা থেকে Hemlock যাই হোক , Hemlock  একটা জীবনদর্শন, একটা অভিজ্ঞতার জায়গা থেকে Hemlock আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছবি।

আর অন্য একটা ঘটনা, যেটা হল যে, একজন বয়স্কা ভদ্রমহিলা আমার ফোননম্বর যোগাড় করে ফোন করেন। ওনার cancer এর 4th stage ছিল এবং উনি অত্যন্ত depressed হয়ে পড়েছিলেন। জীবন থেকে নিজেকে withdraw করতে শুরু করেছিলেন। তিনি কোন এক ভাবে Hemlock  দেখেন এবং ফোন করে আমায় বলেন “বাবা, আমি দু হাত তুলে তোমায় আশীর্বাদ করছি। আমার যে ক’টা দিন বাকি আছে, নতুন করে বেঁচে থাকার উৎসাহ পেলাম”। এটাও একটা ঘটনা যেখানে আমি খুব বিহ্বল হয়ে কান্নাকাটি করেছিলাম, affected হয়েছিলাম। একটা মানুষ, যে হয়ত আর দু মাস, এখন বোধহয় তিনি আর বেঁচেও নেই….. দু-তিন মাস বোধহয় বাকি ছিল ওনার, উনি বলে  গেলেন আমায় – “যে ক’টা দিন আমি বাকি রয়ে গেলাম, Hemlock taught me how to enjoy life in every second”.

Q&A session with Jayati

Hemlock-এ দেখাতে চেয়েছিলাম যে, আমরা actually, কত  ভালো আছি, মানে, আমার থেকে কত খারাপ অনেকে আছে …. সেই অনেকের গল্প তুলে ধরা এবং contrast এ নিজের জীবনটা দেখে realize করা।

আরেকটা ঘটনা Hemlock নিয়ে, Hemlock নিয়ে actually প্রচুর গল্প আছে। এজন্যই বলছি যে, সিনেমাগত ভাবে আমি হয়ত বাইশে শ্রাবণ, চতুষ্কোণ, জাতিস্বর বা রাজকাহিনীর কথা বলব, কিন্তু  মানুষের জীবনের গুরুত্বের দিক দিয়ে definitely Hemlock এক নম্বর এবং, সেখানে আমি আরেকটা কথা বলব, আরেকজনের কথা, যে খুব আক্ষেপের সাথে আমায় চিঠি লিখেছিল যে, আমার বাবাকে যদি মাই Hemlockটা দেখাতে পারতাম, তাহলে হয়ত উনি আত্মহত্যা করতেন না….. in fact, আমার মনে হয়েছে যে Jiah Khan এর incident টা হবার পর, Facebook এ অনেক লেখালেখি হয়েছে যে, যদি Hemlock হিন্দিতে হত, তাহলে হয়ত, Jiah Khan এর incident টা হত না …….

WishScript – ইদানীং সম্পর্কগুলো খুব ঠুনকো হয়ে পড়েছে ….. কখনো কি ভেবেছেন Premarital Counseling  টাইপের subject নিয়ে ছবি করার কথা?

সৃজিত – I am probably not the best person to make a film on this because আমার বাবা-মা র divorce হয়েছে, আমার বাড়িতে অনেকেরই divorce  হয়েছে, আমার বন্ধু-বান্ধবের মধ্যেও আর কি…আমি একবার বিয়ে করেছিলাম, আমার নিজেরও divorce হয়েছে একটা। Divorceপূর্ণ আবহাওয়ায় আমি বড় হয়েছি। But, আমি এটুকুই বলতে চাই যে বা বলি সব সময়,  live togetherই হোক বা বিয়েই হোক, যাই হোক – Follow your heart. হৃদি আলকানন্দার জলে নিয়ে যাবে না কোন চুলোয় নিয়ে যাবে – সেটা হৃদয়ের উপরেই ছেড়ে দেওয়া উচিৎ।

WishScript – এখন তো চতুর্দিকে অনেক রকমের distraction – আপনার কি মনে হয়, এখন কি শৈশব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে?

সৃজিত   – শৈশব কখনো নষ্ট হয় না। শৈশব নিজের ফর্ম নিজে খুঁজে নেয়। DSC00130মানে, energyর মতন বা জলের মতন। Energy যেমন create করা যায় না, বা destroy করা যায় না- just একটা ফর্ম থেকে আরেকটা ফর্মে চলে যায় – kinetic থেকে potential….. হ্যাঁ, সত্যি, শৈশব টা হয়তো এখন kinetic থেকে potential এ গেছে। কেউ এখন নড়াচড়া বা খেলাধুলার দিকে নয়, পুরো  ব্যাপারটাই এখন ফোন বা Computer Screen এ আটকে। So, it is a potential শৈশব। Jokes apart, seriously, হয়ত আমাদের এখন এমন মনে হচ্ছে…. কিন্তু হয়ত আমাদের আগের প্রজন্মের আমাদের সম্মন্ধে এরকম ধারনা ছিল….তার আগের প্রজন্মের তাদের সম্মন্ধে এই একই ধারনা ছিল…. So, শৈশব এর ফর্ম change হয়, শৈশব change হয় না। হয়ত, generation gap টা একটু shrink করেছে।

WishScript – Free time এ কি করতে পছন্দ করেন?

সৃজিত – কাজ করতে পছন্দ করি।

WishScript – কাজ বলতে কি শুধু লেখাই?

সৃজিত – হ্যাঁ, basically সিনেমা এবং সঙ্গীতের জন্য।

WishScript – কিছু memorable ঘটনা বা life এর কিছু turning points?

সৃজিত – Bangalore episode, Presidency college এর ৩ বছর , Cultural Secretary  ছিলাম আমি কলেজে। প্রেসিডেন্সি কলেজে ক্রিকেট খেলা…… পরবর্তীকালে আমার জীবনদর্শন, চিন্তাভাবনা, politics, world views, সঙ্গীতের প্রতি যে exposure … অনেকটাই নির্ধারণ করে কিন্তু JNU. JNU তে আমি ছিলাম almost ৫ বছর। ২ বছর Masters করেছিলাম Economicsএ, ২ বছর M.Phill করেছিলাম এবং ১ বছর Ph.D করেছিলাম। Ph.D শুরু করে – সেটা ছেড়ে চাকরি করতে চলে যাই আমি।

কাজেই দিল্লীতে আমার ৫ বছর থাকা, এবং দিল্লী মানেই JNU – সেখানে নানারকম অভিজ্ঞতা।

JNU একটা অবিশ্বাস্য campus, মানে সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে ময়ূর, খরগোশ, শেয়াল, underground ravines, rivers, caves, জঙ্গল, আরাবল্লি পাহাড়ের পেট কেটে বের করা তো universityটা …. সে একটা মায়াময় campus – এবং সত্যি আমার জীবনে JNU এর প্রকৃতি খুব influence করেছে। যখনই chance পাই, JNU তে ফিরে যাই। আমার পায়ের যে বিশাল accident টা হয়েছিল, National Award –এর পর, আমি just  শ্রেষ্ঠ পরিচালক, শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার এর awardটা নিয়ে ফিরছি JNU হয়ে, JNUর সামনেই accidentটা হল আর কি….তো, JNU আমার জীবনে খুব বড় একটা Chapter.

Institutional জায়গাগুলো আমার জীবনে ভীষণভাবে ছাপ ফেলেছে। কাজের জায়গায় Bangalore, কয়েক মাস Milan… তারপর Bangalore,  পরবর্তীকালে কলকাতা।

WishScript – WishScript নিয়ে কিছু বলুন …..

সৃজিত – WishScript খুব ভালো একটা প্রয়াস, এটাকে ব্যবহার করে প্রচুর মানুষের আশা-আকাঙ্খাকে actually একটা রুপ দেওয়া, এটা দারুন একটা প্রয়াস। I wish WishScript all the best! খুব ভালো হোক এবং সবার যে বোবা অনুভূতিগুলো যেন ফুটে উঠুক, কথা পাক এবং নিজেকে ব্যাক্ত করুক WishScriptএর মাধ্যমে।

সবার জমে থাকা কথা, আড্ডা, স্মৃতি, যে কোন অভিব্যাক্তি eventually  গিয়ে আমার মনে হয় কোথাও একটা জমে যায়, এবং সবসময় সেটা প্রকাশ পায় না…. হয়তো সেটা কোন একটা মাধ্যমের অভাবেই। WishScript একটা দারুন প্রয়াস এবং এই মাধ্যমটি আমার মনে হয় বোবা ইচ্ছেগুলোর মুখের কথা ফুটিয়ে তুলবে। সবার ঘরে ঘরে এমন একটা মাধ্যম এনে দেবে যাতে সবাই তাদের গল্প, আড্ডা, ইচ্ছে, কবিতা, উপন্যাস – নানান কিছু, যা ইচ্ছে হতে পারে, সেটা যেন প্রকাশ করার একটা সুযোগ পেয়ে যায়।

WishScriptকে আমি wish করছি –WishScript will be very very successful. All the best to WishScript.

________________________________________

সৃজিত স্যার কে আমাদের ধন্যবাদ দেবার ভাষা ছিল না। একরাশ ভালোলাগা, প্রচুর নতুন তথ্য, এক দারুন অভিজ্ঞতা এবং এক দুর্লভ সাক্ষাৎকার যন্ত্রবন্দী থুরি স্মৃতির মণিকোঠায় পুরে চলে এলাম।

WishScript Team with Srijit Mukherjee

 

Jayati Mukherjee

Jayati Mukherjee

A born dreamer, in a strong relationship with myself, blessed with wonderful people in my life and in a way to transforming my wishes into reality.

More Posts

Follow Me:
FacebookLinkedInGoogle Plus

Related posts

One thought on “আমার ছবি একটা মানুষের জীবন বাঁচাল – সৃজিত মুখার্জী

  1. shampa dey shrinivasan

    Hemlock amar atyonto priyo cinema.keu je eta dekhe anupranito hoyeche jene khub bhalo laglo.ekta manusher jeeban firiye deyoa cinemar madhyome…er theke bhalo r kichu hote pare na.

Leave a Comment