লিপস্টিক

একটা ছোট্টো পৃথিবী, সাজানো একটা সংসার, স্বামী, ফুটফুটে একটা বাচ্চা, ব্যাস এই টুকুই চেয়েছিল মৌরি। কিন্তু সব কিছুই দুমড়ে মুচড়ে শেষ করে দিল শেষ বিকেলের আকাশে ওঠা  সিঁদুরে মেঘের মতো একটু “লিপস্টিক”।গতানুগতিক সামাজিক নিয়ম অনুযায়ী মেয়েকে বিয়ে দিতে হবে। নিজের ইচ্ছে, ক্যারিয়ার, নিজের বাবা মা, এমন কি নিজের স্বত্তা টুকুও বিসর্জন দিতে হবে একটা সম্মর্কের জন্য। নতুন পৃথিবী-নতুন জায়গা-নতুন সম্পর্ক এবং নতুন এক স্বপ্ন। আর বাকিদের মতোও মৌরিও স্বপ্ন দেখেছিল। সে স্বপ্ন দেখেছিল সকল কে নিয়ে বাঁচার।

তত্ত্ব-গয়না-বিয়ে-আত্মীয়-রিশেপশান সব কিছুর মধ্যে মৌরি একপ্রকার হাঁপিয়ে উঠেছিল। তাও সমস্ত পিছুটান কে পেছনে ফেলেই মৌরি আর শুভ্র বাঁধা পড়লো দাম্পত্তের বাঁধনে। শুভ্র একটা কর্পোরেট সংস্থায় কাজ করে, মাস গেলে মোটা টাকা, ফ্ল্যাট, গাড়ি কোনো কিছুরই অভাব নেই। অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকায় হানিমুনে যেতে পারলো না তারা, তবে শুভ্র কথা দিল সামনের মাসে অফিসের কাজে টোকিও যেতে হবে তখনই একসঙ্গে হানিমুনটাও সেরে ফেলবে। সেই অনু্যায়ী বিয়ের মাস দেড়েক পর তারা চলে গেল টোকিও। নতুন দেশ-নতুন করে পাওয়া কয়েকটা দিন, সব কিছু নিয়েই খুবই খুশি মৌরি। ওখানে থাকবে ৬ দিন, প্রথম ২ টো দিন অফিসের কাজ, বাকি দিন গুলো মধুচন্দ্রিমার রহস্যময় প্রেম। মিস চন্দ্রানি তখন টোকিও অফিসের ইন্ডিয়ান রিপ্রেজেনটেটিভ। উনার সঙ্গে সাক্ষাত হয় তাদের এবং আগামি ২ টো দিন মৌরির সঙ্গে কাটানোর মতো সময় হবেনা একথা সাফ জানিয়ে দেন মিস চন্দ্রানি। তাও সবকিছুই মেনে নেয় মৌরি, শুভ্রকে ভালোবেসে, শুভ্র এর স্বত্তা কে ভালোবেসে। ২টো দিন কেটে গেল, ৩য় দিনও বাকী ২টো দিনের মতো শুভ্র বেরিয়ে পড়লো অফিসে, যাওয়ার সময় শুধুই বললো প্রাইভেট সেক্টরে কাজ করি তাই লাইফের অনেক কিছু স্যাক্রিফাইজ করতে হয়। মৌরি স্যাক্রিফাইজ করে নিয়েছিল, হয়তো বাধ্য হয়েছিল শুধুমাত্র শুভ্রকে ভালোবেসে। ৫ দিন কেটে গিয়েছিল, শুধুমাত্র ১টা দিনই পেয়েছিল শুভ্রকে নিজের কাছাকাছি। পরের দিন রওনা হল কোলকাতা। স্বাভাবিক ছন্দে শুরু হল সংসার যাপন। এই ভাবে কেটে গেল কয়েকটা মাস। নিউ ইয়ারের পার্টিতে হঠাৎই মৌরি আর শুভ্ররের সঙ্গে দেখা চন্দ্রানির। সব কিছুই সুন্দর স্বাভাবিক চলছিল কিন্তু ধীরে ধীরে শুকিয়ে গেল নদীর মতো। শুভ্র এখন মাঝে মাঝে রাতে বাড়ি আসেনা । অফিসের পরেও বাড়ি আসতে হয়ে যায় অনেক রাত, পার্টি আর অফিস ট্রিপগুলো যেন হঠাৎ করে একটু বেড়েই গেছে।

তাও মৌরি প্রতিরাতে স্বপ্ন দেখে নতুন এক সকালের । তার মনে আসে অনেক উত্তর না জানা প্রশ্ন, তাও সে শুভ্রকেই ভালোবাসে। স্বপ্ন দেখে সাজানো সংসারের। কিন্তু স্বপ্ন গুলো বারবার আছাড় খায়। খুঁজে পায়না তার প্রশ্নের  উত্তর গুলো। কিন্তু হঠাৎ একদিন সব প্রশ্নের উত্তর মিলিয়ে দিল শুভ্রের জামায় এক টুকরো “লিপস্টিক”।

Utsab Maity

আমি লেখার চেষ্টা করি। ভালোবেসে সব কিছুকে ভালোবাসি। "মন ও জীবন" নামক একটি NGO এর সঙ্গে যুক্ত আছি। মানুষকে ভালোবাসতে ও সাহায্য করতে ভালো লাগে। আমি সামান্য মানুষ, এই বেশ ভালো আছি।।

More Posts

Related posts

Leave a Comment