সন্ত @ ইয়াহু.কম

কাফেতে বসে নেটে চ্যাট করাটা অত্যন্ত প্রিয় বিষয় হয়ে উঠেছে সন্তর । যবে প্রথম সে চ্যাটের আসরে নেমেছিল তখন সব কিছুতেই বিরক্তি বোধ করত । কম্পিউটারে বসাটা তার কাছে ছিল অসহ্য । কম্পিউটারে কাজ করতে বসলেই পাঁচজনকে ডাক পাড়তে হত কলেজে । কেউ সাড়া দিত, কেউ দিত না । অবশেষে বন্ধুদের মারফত কাফেতে ঢোকা, চ্যাটে হাত পাকানো ।

সন্ত দক্ষিণ কর্ণাটকার প্রত্যন্ত গ্রামের এক ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে সেকেন্ড ইয়ারের স্টুডেন্ট । কম্পিউটার সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য এবং হাতে কলমে শিক্ষা- ইঞ্জিনিয়ারিং কর্মশিক্ষার মাধ্যমেই । ঘর ছেড়ে দূর দিগন্তে পাড়ি দিয়ে হস্টেল তার একমাত্র বাসস্থান এবং চ্যাট একমাত্র বন্ধু । বন্ধু তার ছিল বটে, কিন্ত নানা কারণে, বিভিন্ন ঝামেলায় তিতিবিরক্ত হয়ে আজ সে একা, চ্যাটকেই সে একমাত্র বন্ধু মনে করে । চ্যাটে বিভিন্ন লোকের সঙ্গে আলাপ ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে । গড়ে ওঠে সম্পর্ক দীর্ঘদিন স্থায়ী থাকায় সন্তকে মানসিক শান্তি দেয় । তবে চ্যাটে হতাশা নেই তেমন কিন্ত নয় – তাও আছে । অনেক সময় লোকজন ঠিকঠাক মেলে না, নেট বিভ্রাটের জন্য কথা মাঝপথে কেটে যায়, সার্ভার স্লো থাকার জন্য কথা বলতে অসুবিধা হয় । অনেক সময় কাফের মালিকের সঙ্গে ঝগড়া বাঁধে টাকা বাকি থাকার জন্য । তবু মালিক সন্তকে পছন্দ করে – কারণ সন্ত তার বাঁধা কাস্টমার ।

সেকেন্ড ইয়ারের পরীক্ষা শেষ হওয়ার দুদিন পরেই তার বাড়ি যাওয়ার পালা । সন্ত সকালে বসেছে চ্যাটের আসরে । বিভিন্ন লোকের সঙ্গে আলাপ জমে না ওঠায় সন্তর মাথায় দুষ্টু বুদ্ধি খেলে গেল । ইয়াহু-র চ্যাট রুমে ঢুকে লেসবিয়ানদের ঘরে ঢুকে পড়ল -যেখানে শুধু অসংখ্য মেয়ে, যারা শুধুমাত্র  নিজেদের মধ্যে এবং বিশেষত মেয়েদের সাথে কথা বলতেই বেশী আগ্রহী । কেউ সন্তকে পাত্তা দিল না । অনেক অপেক্ষার পর একটা মেয়ের সঙ্গে আলাপ হল যার নাম vrindha_62 ।

ব্রিন্দা প্রথমেই তার সঙ্গে আলাপ করে পরিচয় জানতে চাইল ।

যখন জানল সে ছেলে এবং ব্যাঙ্গালোরে থাকে তখন সেও সন্তকে বাতিলের খাতায় ফেলে দিতে চাইছিল । অনেক অনুনয় বিনয়ের পর সে রাজি হল সন্তর সঙ্গে আলাপ জমাতে । আলাপ জমিয়ে সন্ত মনে মনে ভাবতে লাগল দিনটা সার্থক হল ।

পরদিন সকালে সন্ত গেল ক্যাফেতে । অনেক প্রতীক্ষার পর ব্রিন্দার দেখা মিলল । কথায় কথায় জানতে পারল যে ব্রিন্দার বয়স ২৬ বছর । ভদ্রমহিলা সমকামী এবং তার পার্টনারের সঙ্গে থাকে । কর্মসূত্রে সে একজন ফুটবল কোচ । এখন উত্তর কর্ণাটকার বিদারে থাকে । একসঙ্গে একটা মেয়ের এতগুলো তথ্য পেয়ে সন্তর মন খুশিতে ভরে উঠল । সন্তও জ়ানাল তার কথা । কোলকাতায় পড়াশুনার পাট চুকিয়ে সে এসেছে কর্ণাটকে পড়তে । বাংলায় পড়ার চেষ্টা করেছিল বটে কিন্ত ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ কম থাকার দরুন মেধার তালিকায় ‘ঠাঁই নাই,ঠাঁই নাই’ তকমা জুটেছিল । অগত্যা কর্ণাটকের বুকে পাড়ি দেওয়া । ক্ষণিকের জন্য হলেও একরাশ ক্ষোভ আলোচনার মধ্যে প্রকাশ পায় । তবে এই ক্ষোভ তার বাবা মায়ের প্রতি না রাজ্য সরকারের প্রতি সে বলা বড় মুশকিল ।

আজ সন্তর যাওয়ার পালা । সকাল থেকে বাড়ি যাওয়ার জন্য তোড়জোড় । ট্রেনে বাসে করে সে কর্ণাটকের প্রত্যন্ত গ্রাম ছেড়ে বিকেলের দিকে ব্যাঙ্গালোর এসে পৌঁছায় । রাত সাড়ে দশটায় ট্রেন ছাড়বে ।সূতারাং সময় কাটানোর জন্য সন্ত চ্যাটে বসে যায় এবং ব্রিন্দাকে অনলাইন দেখে । প্রাথমিক অভ্যর্থনা পর্ব মিটিয়ে জানায় সে বাড়ি যাচ্ছে ।

vrindha_62: বাড়ি যেন কোথায় তোমার? কোলকাতায় – না?

santu: হ্যাঁ ।তবে ঠিক কোলকাতায় ন্য । কোলকাতা থেকে ৭-৮ কিমি  দূরে থাকি আমি ।

vrindha_62: হুম । আমি ছিলাম ওখানে । কোলকাতা আমার খুব পরিচিত ।

santu: তাই নাকি?

vrindha_62: আমি চিনি – পার্ক স্ট্রীট, ময়দান, ইডেনগার্ডেন এই সব । তা কোলকাতায় যখন যাচ্ছ তখন আমার জন্য একটা গিফ্ট দিতে হবে কোলকাতা থেকে ।যদি না দাও তবে তোমার সাথে আর কোন সম্পর্ক রাখব না ।

santu: কি গিফ্ট?

vrindha_62: আমাকে একটা ফুটবল জার্সি দিতে হবে ।

সন্ত আকাশ থেকে পড়ল । কিন্ত কিছুতেই না করতে পারল না । কারণ মেয়েটির সাথে আলাপ জমিয়ে এত ভাল লেগেছিল যে তার সঙ্গে দেখা করার প্রবল ইচ্ছা মনের মধ্যে জেগে উঠেছিল । তবে সে ভাবতেই পারেনি যে মেয়েটি তার কাছ থেকে গিফ্ট চেয়ে বসবে । সবথেকে বড় কথা বাড়ি বয়ে গিফ্টটা এনে সে পড়বে ফাঁপড়ে । পরিবারের সকলকেই নানা উত্তর দিতে দিতে তার প্রাণান্তকর অবস্থা হবে । আজকের চ্যাটিং টা সন্তর মেজাজকে একটু পানসে করে দিল । মাথার মধ্যে একরাশ চিন্তা নিয়ে সে ট্রেনে উঠল বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে ।

বাড়ি ফিরে সন্ত সকলের কাছ থেকে প্রতিবারের মত উষ্ণ অভ্যর্থনা পেল । খানিকটা আনন্দ পেল । তারপর একদিন ছোটো একটা বাহানা দিয়ে কলকাতায় এল গিফ্ট কিনতে । ফুটপাত থেকে সে একটা ফুটবল জার্সি কিনে নিল এবং ই-মেল থেকে পাওয়া ঠিকানায় কুরিয়ারের সাহায্যে তখনি সেটা পাঠিয়ে দিল ।

সন্ধে বেলায় আবার বসল চ্যাট করতে । বাস্তবিক এই বয়সের ছেলেমেয়েরা নেশার প্রতি তীব্র আকর্ষণ লাভ করে । কেউ সিগারেটের ধোঁয়ায়, কেউ মদের পেয়ালায় আনন্দ খোঁজে । কিন্ত সন্ত চ্যাট করে যতটা আনন্দ পায়, অন্য কোন বস্ততে তা পায় না । আর চ্যাটে বসলে ইদানীং তার ধ্যানের বস্ত হল ব্রিন্দা এবং আজও যথারীতি তাকে পেয়েও গেল ।

vrindha_62: হাই সন্ত, পেয়েছ আমার জিনিসটা?

santu: হ্যাঁ পেয়েছি । ওটা একটা ফুটপাত থেকে কিনেছি । কুরিয়ারে পাঠিয়েও দিয়েছি ।

vrindha_62: কি? ফুটপাত থেকে আমার জিনিস কিনলে ? আমি এত সস্তা? তোমার সঙ্গে আমার আর কোন সম্পর্ক নেই ।

সন্ত হতবাক হয়ে গেল । এক জার্সি নিয়ে সে যে এতবড় সমস্যায় পড়বে তা জীবনে ভাবেনি ।

santu: তুমি এত চটছ কেন ? কোন দোকানে ঠিকঠাক জার্সি পাওয়া যায় আমি তা জানি না । তাই ফুটপাত থেকে কেনা

vrindha_62: কোলকাতার ছেলে হয়ে দোকান চেন না?

santu: উফ! আমি প্রপার কোলকাতায় থাকি না । তোমার দোকান জানা থাকলে আমায় বলে দাও ।

vrindha_62: ঠিক আছে । এসপ্ল্যানেডের উল্টোদিকে ধর্মতলার কাছে এক্তটা মার্কেট আছে । সেখানে ঢুকে খান্না ব্রাদার্স থেকে জার্সি কিনে নিও ।

সন্ত হ্যাঁ-সূচক জবাব দিয়ে মনমরা হয়ে বেরিয়ে এল । কর্ণাটক থেকে এখানে এসে তার হাতখরচ বাবদ ৫০০/ বরাদ্দ ছিল । তার মধ্যে ১০০/ উবে গেল জার্সি কান্ডে । তাও সেটা ভদ্রমহিলার মনপসন্দ নয় । আরো কত টাকা জলাঞ্জলি দিতে হবে তা সন্তর অজানা । কিন্ত কি আর করা, মেয়েটির ব্যক্তিত্বে সন্ত মুগ্ধ । এমন মেয়ে দুটি হয় কিনা সন্তর অজানা । হতে পারে সে সমকামী, তাতে সন্তর মাথাব্যথা নেই । কত কষ্টের বিনিময়ে আলাপ জমাতে পেরেছে -সে সহজে ছাড়ার পাত্র নয় । এবার সন্ত বাড়িতে সত্যি কথাই বলে গেল যে সে বন্ধুর জন্য জার্সি কিনতে যাচ্ছে ।

-‘জার্সি? কলেজের বন্ধু? তোর বন্ধুটা কলেজে ফুটবল খেলে?’

-‘বন্ধুটা তোকে জার্সি কেনার পয়সা দেবে তো?’

এইরকম কতকগুলি অস্বস্তিকর প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে কোনটায় মাথা নাড়িয়ে, কোনটায় চুপ থেকে সন্ত নিজ উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ল । প্রায় ২৫০/ বিনিময়ে জার্সি নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে রওনা হল । খরচ একপ্রস্থ হল বটে, কিন্ত স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল সন্ত । তবে অবিশ্বাস্য হলেও সে আর নেটে গিয়ে বসল না । ভয় হল যদি ব্রিন্দার সাথে দেখা হয় আর অন্য কিছু চেয়ে বসে!

বাড়ি থেকে কলেজে ফিরে তার প্রথম কাজ হল ব্রিন্দার সাথে যোগাযোগ করা । করলও তাই –

santu: তুমি জিনিসটা পেয়েছ?

vrindha_62: হ্যাঁ পেয়েছি । দারুণ সুন্দর হয়েছে । ধন্যবাদ ।

santu: এবার আমারও একটা চাওয়া আছে তোমার কাছ থেকে ।

vrindha_62:  কি সেটা?

santu: আমি তোমার সঙ্গে দেখা করতে চাই ।

vrindha_62: না,না সেটা সম্ভব নয় ।

santu: কেন? বেশ, তোমার ফোন নম্বর দাও আমি তোমার সঙ্গে কথা বলব ।

vrindha_62:  না, তাও সম্ভব নয়, অসুবিধা আছে ।

santu: তবে তুমি আমার হস্টেলের ফোন নম্বর নাও – ফোন কর ।

vrindha_62: বেশ তাই দাও ।

ক্যাফে থেকে সন্ত বেরিয়ে এল একরাশ চিন্তা নিয়ে । সন্তর মাথায় এল না, যে মেয়ে একা থাকে এবং কুরিয়ারে গিফ্ট নিতে কোন অসুবিধা হয় না, তার কি এমন অসুবিধা হতে পারে ফোন নম্বর দিতে বা দেখা করতে? যাই হোক সন্ত অপেক্ষা করতে থাকে ফোনের জন্য ।

ব্রিন্দাকে ফোন নম্বর দেওয়ার পর সে সন্ধার পর প্রতিদিন অনেক রাত অবধি বসে থাকে ফোনের কাছে । কিন্ত ব্রিন্দার ফোন আসে না । বহু ছেলের সঙ্গে তাদের প্রেমিকার কথোপকথন সে সামনে থেকে দেখে যায়, কিন্ত ব্রিন্দার ফোন নৈব নৈব চ । তবে কি সন্ত ভুল নম্বর দিল? না, না, তা কি করে হয় ? সে ফোন নম্বর দেওয়ার আগে পাঁচ বার মিলিয়ে নিয়েছিল । তবে??

বিরক্তি এবার জেদে পরিণত হয় । ঠিকই করে নেয় এর একটা হেস্তনেস্ত দরকার । এ ব্যাপারে সে নিজেই উদ্যোগ নেবে । মনে মনে সে এক দৃঢ সংকল্প নিয়ে চ্যাটে বসে এবং ব্রিন্দাকে লিখে পাঠায়-‘হয় কালকের মধ্যে ফোন কর, নয় তোমার ঠিকানায় আমি হাজির হব’। ওপ্রান্ত থেকে তাকে মানানোর জন্য অনেক অনুনয় সূচক উত্তর আসে, কিন্ত সন্তর মধ্যে কোন ভাবান্তর ঘটে না ।

সন্ত ভেবেছিল মেয়েটি নির্ঘাত ভয় পেয়েছে । নিশ্চয় ফোন করবে । এক বড় আশায় সন্ত বুক বাঁধে । প্রতিটি মুহুর্ত তার কাছে দীর্ঘ সময় মনে হয় । দিন যেন কাটতেই চায় না । কিন্ত হায়! কাল সকাল, দুপুর পেরিয়ে সন্ধ্যা অতিক্রান্ত । ব্রিন্দার ফোন নেই । রাগে কান লাল হতে থাকে, মাথা ঝাঁ ঝাঁ করতে থাকে । রাত বারোটা অবধি সে ফোনের কেছে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে । ফোন আসে প্রচুর – তবে ব্রিন্দার নয় ।

দেওয়ালির উপলক্ষে রবিবার ধরে মোট তিনদিন কলেজ ছুটি পাওয়া গেছে । হাতে মাত্র এক হাজার টাকা সম্বল করে সন্ত বেরিয়ে পরে ব্রিন্দার খোঁজে । মনে মনে কল্পনার জগতে অনেক কিছু কল্পনা করে নেয়ে । তাকে দেখে ব্রিন্দা যে কত অপ্রস্তত হবে সেটা ভেবে সে মনে মনে বেশ আনন্দই পায় । তার গন্তব্যস্থল উত্তর কর্ণাটকার বিদার । রাতে কোন ট্রেন না থাকায় বাসকে সম্বল করে যাত্রা করে । ট্রেন থাকলে যতটা সহজ হত, বাস যোগে যাওয়ার ফলে যাত্রাটা ততটাই কঠিন হয়ে পড়ল । বিদার পৌঁছাতে তার প্রায় ২৪ ঘণ্টা লেগে গেল । সারা রাত জেগে, আধা ঘুমিয়ে, প্রায় অর্ধেক অর্থ ব্যয় করে যখন বিদার পৌঁছাল তখন বাজে রাত আটটা । থাকার জন্য লজ ভাড়া করে সে দেখল পকেটে যে পরিমাণ অর্থ আছে তাতে আর যাই হোক, ফিরে যাওয়া দূর অস্ত । এখন একমাত্র অগতির গতি – ব্রিন্দা ।

সকাল হতেই সন্ত ছুটল ব্রিন্দার খোঁজে । মাথায় ছিল যে মেয়েটি একজন ফুটবল কোচ – স্টেডিয়ামে মোলাকাত ঘটতে পারে । যেতে যেতে  স্টেডিয়ামের দেখা মিলল । গিয়ে দেখল কয়েকজন একধারে ফুটবল খেলছে । সন্ত তাদের কাছে গেল, নিজের মতো গুছিয়ে বলল -‘দেখুন, আমার বোন ফুটবল শিখতে চায় । কিন্ত আমি যেখানে থাকি সেখানে কোন মেয়ে ফুটবল কোচ না থাকায় এখানে এসেছি কোচের সন্ধানে । দয়া করে আমায় সাহায্য করবেন?’

লোকগুলি তার কথা শুনে অবাকই হয়ে গেল । পরষ্পরের মুখের দিকে তাকিয়ে তাদের মধ্যে একজন বলে উঠল -‘ফুটবল কোচ আছে, কিন্ত মেয়ে ফুটবল কোচ তো নেই ।’

অবাক হল সন্ত । কিন্ত দমল না । বলল -‘কিন্ত আমার সঙ্গে নেটে একজনের কথা হয়েছে । তিনিই আমাকে এখানে এক মহিলা কোচের সন্ধান দিয়েছেন ।’

-‘তবে আপনি এক কাজ করুন । এখানে চন্দ্রশেখর ব্রিন্দা নামে এক ভদ্রলোক আছেন । তিনি এখানকার ফুটবল কোচ । তাঁর সঙ্গ যোগাযোগ করুন । তিনিই আপনাকে সাহায্য করতে পারেন ।’

চন্দ্রশেখর ব্রিন্দার নাম শুনে মনে হল কেউ যেন সন্তকে তাল গাছের মগডাল থেকে আছাড় মেরে ফেলে দিল । তবু তার আন্দাজকে সুনিশ্চিত করতে সে জিঞ্জাসা করল -‘ভদ্রলোক কি কাফেতে বসেন খুব?’

-‘হ্যাঁ, তা যান বৈকি ।’

ব্রিন্দা দেবীর কারসাজি তার কাছে অতি সহজেই পরিষ্কার হয়ে গেল । অবস্থার সামাল দিয়ে কোনক্রমে সে বলে উঠল-‘একবার তাঁর সঙ্গে আমায় পরিচয় করিয়ে দিন না ।’

-‘নিশ্চয়ই ।’

স্টেডিয়ামের অফিস ঘরে সন্ত অপেক্ষা করতে থাকল । একধারে শিল্ড সাজানো, একধারে উচ্চতা মাপার জন্য দেওয়ালে দাগ কাটা আছে । এসব দেখতে দেখেতে পিছন থেকে কে একজন ডাকল । একজন ভদ্রলোক- বয়স ৩৫-৩৬ এর কাছাকাছি, মুখে চাপ দাড়ি । বিনীত হাসি হেসে জিঞ্জাসা করলেন- ‘আপনি কি আমাকে খুঁজছেন? আমার নাম চন্দ্রশেখর ব্রিন্দা’।

সন্ত ব্রিন্দাকে দেখে চমকে গেল  ।

 

Rajkumar Raychaydhuri

Rajkumar Raychaydhuri

ছন্দে বাঁধা জীবনে না হেঁটে ভিন্ন পথে চলতে ভালবাসা এক পথিক। ভাল লাগে লিখতে, নেশা আছে ঘুরতে। কারিগরী বিদ্যায় হাত পাকানো। বিকল্প শক্তি নিয়ে কাজকর্মে জড়িত।

More Posts

Related posts

Leave a Comment