আ্যটেন্ডান্স

আ্যটেন্ডান্স

ক্যালাস কতরকমের হয় …… সুকুমার যে আজ আসবে না, মনেই ছিল না চান্দ্রেয়ীর। বোকার মত ভেবে বসে আছে বিয়ের গিফটটা ওকে দিয়েই কেনাবে। আজ কাজ করতে করতে ১২টা নাগাদ মনে পড়ল সেই কথা। সন্ধ্যেতে অফিস থেকে সবাই মজুমদারের বিয়ে তে যাবে, সেই গিফট কিনতে এখন নিজেকেই যেতে হবে….কি আর করা! প্রনব স্যার কে বলে, ঘনশ্যামের গাড়িটা নিয়ে সোজা উল্টোডাঙার টাইটান শো-রুম। তাড়াতাড়ি না ফিরলে প্রচুর কথা শুনতে হবে…… গাড়ী থেকে নামার সময় ফোনটা বাজল;  বুবুল।ফোন সাইলেন্ট করে, চান্দ্রেয়ী ভাবল, ঘড়িটা আগে কিনে নিই, ফেরার সময় ফোন করে নেব। দোকানে ঢুকতে…

Read More

জিন্দেগী

জিন্দেগী

প্রতিদিন রাতে শুয়ে শুয়ে ভাবি; ঘটনাটা ঠিক কি ঘটছে…. কি ঘটতে চলেছে….  অফিস ফেরত বাজার করে নিয়ে এসেই আমার দায়িত্ব শেষ – বাদবাকিটা মা-ই সামলে নেয়। আমার তখন পুরোটাই “মী টাইম”; বই পড়ি, ম্যাগাজিন পড়ি, ইউটিউব খুলে পছন্দমত ভিডিও দেখি, মাঝে মাঝে অনেকদিন না কথা হওয়া বন্ধুগুলোকে ফোন করি…সময়টা বেশ ভালই কাটে। আমি আর মা রাতে একসাথে খাই, সেইসময়টাতেই আমার টিভির সাথে যা সম্পর্ক- তারপর নিশ্চিন্তের ঘুম। এইরকম বেশ ছকে বাঁধা একটা নির্ঝঞ্ঝাট জীবন ছিল আমার। ইদানীং, মানে মাস চারেক, বড্ড বেশী ভাবছি, হ্যাঁ; ভাবনাটা বেশ বেশী রকমই হচ্ছে…আর একটা…

Read More

শাড়ি

শাড়ি

আমার বন্ধুমহলে বেশ কিছু অলোকসামান্য সুন্দরী আছেন, যাঁদের শাড়ির ভাণ্ডার তাঁদের নিজেদের চেয়েও বহুগুণ বেশি চোখ ঝলসানো। এমন টপিক নিয়ে তাঁদের লেখার কথা বুঝলেন, আমি এ বাবদ নেহাত অজ্ঞ বললেও কম বলা হয়। এই সেদিন কোন এক শাড়ির পরিচয় দিতে গিয়ে ভ্যাবলার মত বলে ফেললুম ‘রেশম সিল্ক’। যাঁকে বলছিলুম সেই দিদিটি এদ্দিনে আমার সুনির্মল চিত্তের বিলক্ষণ পরিচয় পেয়েছেন, দিলেন এক ‘মনে হাসি গলায় রাগ’ মার্কা ধমক, “রেশম আবার সিল্ক কি রে হতচ্ছাড়ী, রেশমকেই সিল্ক বলে, আর সিল্ক মানেই রেশম। তোর মত জংলীকে বল্কল পরিয়ে ছেড়ে দিলেই ঠিক মানাত, ওই চান্দেরী…

Read More

হেমলক

হেমলক

গত বছর শীতের শেষ হয়ে বসন্ত আসি আসি করছে – এমন একটা পড়ন্ত দুপুরের দিকে অপরাজিতার বাড়িতে বেহায়া কোকিলের মতো একটানা ল্যান্ডফোনটা বেজেই যাচ্ছিল ।মধ্যবয়সী মহিলাটি বাড়িতে একা – আলগা ভাতঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন ।চমক ভেঙে পড়িমড়ি করে ফোনটা ধরতেই অচেনা এক কণ্ঠ ঘোষণা করেছিল নিতান্ত এক দুঃসংবাদ ।অপরাজিতা দাশগুপ্ত পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম অবস্থায় রিকভার নার্সিংহোমে অ্যাভমিটেড ।বলাই বাহুল্য, মধ্যবয়সী মহিলাটি অপরাজিতা দাশগুপ্তের মা ।তারপর….. ?!!! তারপর নার্সিংহোমে পৌঁছে দেখা গেল অপরাজিতা তখনও সেন্সলেস ।মাথায় আঘাত গুরুতর ।রক্ত দিতে হয়েছে ।জীবনের আশঙ্কা নেই । কে এই দেবদূত – যিনি দুর্ঘটনাস্থল…

Read More

শেষ থেকে শুরু

শেষ থেকে শুরু

বৃষ্টি অফিসের কাজে দিল্লী গেছে কিন্তু দিল্লীতে যাওয়ার ইচ্ছে তার ঠিক ছিল না। যেহেতু সে দিল্লীর মেয়ে তাই জায়গাটাও তার পরিচিত বলে অফিস থেকে তাকেই পাঠানো হয়েছে। দিল্লীর নেহেরু প্লেসের এক অফিসে কাজ আছে তাই লাজপত নগরের বিক্রম হোটেলেই অফিস থেকে বুকিং করে দিয়েছে। (১) বৃষ্টির জন্ম ও পড়াশুনা দিল্লীতেই, তাই দিল্লীর রাস্তা ঘাট ওর কাছে খুব পরিচিত। দিল্লীর লোকেদের নার্ভও ওর ভাল ভাবে জানা। মনে পরে যায় সেই ছেলেবেলার কথা। বাবা, মা-র হাত ধরে ছুটির দিনে ইণ্ডিয়া গেটের সামনে বেড়াতে যাওয়া, মনে পরে সেই দিনগুলো যখন লোদী গার্ডেনের বা…

Read More

হারিয়ে পাওয়া

হারিয়ে পাওয়া

লাল পাহাড়ের চূড়ার রোদ্দুর মাখা মেঘের দিকে অপলকে তাকিয়ে ছিল ধিতাং।কাল মহালয়া।বাড়িতে থাকলে এই সময় কত হইহই ।মা, কাকীমার সাথে হাজার দোকান ঘুরে ঘুরে কেনাকাটা, ফেরার পথে ফুচকা খাওয়া-মজাই আলাদা।টিকলি তো দিদিভাই ছাড়া কিছু জানতো না, কে জানে এখন টিকলি দিদিভাইকে আর আগের মতো ভালোবাসে কিনা ।উঁহু, বাসবে না ।কেউই তো আর ধিতাংকে ভালোবাসে না ।সবার চোখে ধিতাং খুনি হয়ে গেছে ।জলে ভরে আসে ধিতাং-এর চোখে । ফেসবুক খুলে বসে ধিতাং ।এই ফেসবুকের বন্ধুরাই তো তার জীবনের একমাত্র জানলা, যা দিয়ে তবু কিছু আলো আসে ।পুরোনো ছবিগুলো দেখে মাঝে মাঝে…

Read More

লিপস্টিক

লিপস্টিক

একটা ছোট্টো পৃথিবী, সাজানো একটা সংসার, স্বামী, ফুটফুটে একটা বাচ্চা, ব্যাস এই টুকুই চেয়েছিল মৌরি। কিন্তু সব কিছুই দুমড়ে মুচড়ে শেষ করে দিল শেষ বিকেলের আকাশে ওঠা  সিঁদুরে মেঘের মতো একটু “লিপস্টিক”।গতানুগতিক সামাজিক নিয়ম অনুযায়ী মেয়েকে বিয়ে দিতে হবে। নিজের ইচ্ছে, ক্যারিয়ার, নিজের বাবা মা, এমন কি নিজের স্বত্তা টুকুও বিসর্জন দিতে হবে একটা সম্মর্কের জন্য। নতুন পৃথিবী-নতুন জায়গা-নতুন সম্পর্ক এবং নতুন এক স্বপ্ন। আর বাকিদের মতোও মৌরিও স্বপ্ন দেখেছিল। সে স্বপ্ন দেখেছিল সকল কে নিয়ে বাঁচার। তত্ত্ব-গয়না-বিয়ে-আত্মীয়-রিশেপশান সব কিছুর মধ্যে মৌরি একপ্রকার হাঁপিয়ে উঠেছিল। তাও সমস্ত পিছুটান কে পেছনে…

Read More

সন্ত @ ইয়াহু.কম

সন্ত @ ইয়াহু.কম

কাফেতে বসে নেটে চ্যাট করাটা অত্যন্ত প্রিয় বিষয় হয়ে উঠেছে সন্তর । যবে প্রথম সে চ্যাটের আসরে নেমেছিল তখন সব কিছুতেই বিরক্তি বোধ করত । কম্পিউটারে বসাটা তার কাছে ছিল অসহ্য । কম্পিউটারে কাজ করতে বসলেই পাঁচজনকে ডাক পাড়তে হত কলেজে । কেউ সাড়া দিত, কেউ দিত না । অবশেষে বন্ধুদের মারফত কাফেতে ঢোকা, চ্যাটে হাত পাকানো । সন্ত দক্ষিণ কর্ণাটকার প্রত্যন্ত গ্রামের এক ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে সেকেন্ড ইয়ারের স্টুডেন্ট । কম্পিউটার সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য এবং হাতে কলমে শিক্ষা- ইঞ্জিনিয়ারিং কর্মশিক্ষার মাধ্যমেই । ঘর ছেড়ে দূর দিগন্তে পাড়ি দিয়ে হস্টেল তার…

Read More

দৌড়

দৌড়

রবীন বাবু অল্প কিছুদিন হল চাকরী থেকে অবসর নিয়েছেন। চাকরী জীবনে অফিস আর ঘর, এ ছাড়া কিছুই জানতেন না। আজকাল দৌড় নিয়ে যে এত চিন্তা ভাবনা চলছে তা এতদিন বুঝতেই পারেন নি। মাঝেমধ্যে অবশ্য অফিস যাওয়ার পথে রোড ম্যারাথনের সন্মুখীন তাকে হতে হয়েছে। অবসরের পর কিছুদিন থেকেই ভাবছিলেন, দেহের মধ্যপ্রদেশটা যে ভাবে বেড়ে চলেছে তাতে কিছু একটা করতেই হবে। কিন্তু কিছুই করা হচ্ছিল না, শুধু মাত্র চিন্তা-ভাবনা ছাড়া।  পঞ্চবার্ষিকি পরিকল্পনা আর কি। কিন্তু হঠাৎ কোমরে, হাঁটুতে যন্ত্রণা শুরু হওয়াতে আর কোন উপায় না দেখে তাকে ডাক্তারের শরণাপণ্ণ হতেই হল। ডাক্তার…

Read More

সূর্যোদয়

সূর্যোদয়

মাস খানেক আগে হৈ হৈ করে পৃথার সাথে রজতের বিয়েটা হয়েছিল ।রজত বোনের বিয়েতে পৃথাকে দেখেই পৃথার প্রেমে পড়ে গেছিল।সবে মাত্র চাকরি পাওয়া রজত পৃথাকে প্রেম নিবেদন করে ব্যর্থ হওয়ার কোনও চান্স নেয় নি ।রজত খুব ছোটবেলায় মা বাবাকে হারিয়েছে, তাই জেঠা জেম্মার কাছেই মানুষ।সেদিন রাতেই জেম্মার কাছে এসে বলেছিল রজত ।তারপর আর কোনো সমস্যায় পড়তে হয় নি ।রজতের জেঠা পৃথার বাবার খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু ।তাই দুই বাড়ির সম্মতিতেই বিয়েটা হয়েছিল হৈ হৈ করেই। পৃথাকে নিয়ে হাজার হাজার স্বপ্ন দেখে গেছে রজত ।কিন্তু জেম্মার বারণ ছিল বিয়ের আগে ফোন বা…

Read More
Page 1 of 6
1 2 3 6